weather ৩১.৯৯ o সে. আদ্রতা ৬৯% , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন ঢাকা, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ০১-০৬-২০২৫ ০২:১০

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকায় গত কয়েকদিন অধিক পারিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা বলছে, সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানী। সৃষ্টি হয় ব্যাপক জলাবদ্ধতার। এবারো একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টির ফলে রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক, ফুটপাত ও অলিগলি তলিয়ে গেছে, ফলে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

তবে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমনকি, বিগত পাঁচ অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল-নর্দমার উন্নয়নের নামে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলেও, এর সুফল নগরবাসী প্রত্যক্ষ করতে পারেননি।

ঢাকার খাল, নর্দমা ও জলাধারগুলো বিভিন্ন কারণে দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে বক্সকালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, আবার কোথাও গড়ে উঠেছে অট্টালিকা। শত শত পুকুরও হারিয়ে গেছে। বিগত সরকারগুলোর সময় তদারকিতে থাকা সংস্থাগুলো এসব রক্ষায় আন্তরিক ছিল না। এখনো যতটুকু জলাশয়, খাল, ডোবা ও নর্দমা রয়েছে, সেগুলো রক্ষায়ও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেই।

বর্ষা মৌসুম আসন্ন। ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতেই রাজধানীতে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতেই আতঙ্কিত নগরবাসী। সামনের দিনগুলোয় আরো ভোগান্তি হবে, তা সহজে বুঝে নেওয়া যায়। এ অবস্থায়ও ঢাকাবাসীকে কোনো সুখবর দিতে পারছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো। বরং তারা আশঙ্কার কথাই বলছেন। গত বছরে অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণের পর থেকে কার্যত স্থবিরতা বিরাজ করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে। এ কারণে খাল পরিষ্কার, নর্দমা পরিষ্কার এবং খাল ও নর্দমা উন্নয়নে তেমন কোনো কাজ হয়নি। যার ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা বেশি হওয়ার শঙ্কা খোদ দায়িত্বপ্রাপ্তদেরই।

নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল, নর্দমা বড় উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে পাশাপাশি রুটিন কিছু কাজ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম-খাল-নর্দমাগুলো পরিষ্কার রাখা এবং পানি নিষ্কাশন নেটওয়ার্ক সচল রাখা। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে এর সমাধান করা; এসব কোনো কাজ হচ্ছে না।

তিনি জানান, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশন খাল ও নর্দমার দায়িত্ব বুঝে নিলেও নিজেদের স্বতন্ত্র বিভাগ বা সার্কেল গড়ে তুলতে পারেনি। প্রস্তাবিত সার্কেল করে কাজ করলেও সেখানে ড্রেনেজ বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো লোক নেই। দুই নগর সংস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ বিষয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তুলে তাদের দিয়ে এসব কাজ পরিচালনা করতে হবে। এসবের পাশাপাশি খাল-নর্দমার টেকসই উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা শহরে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেই সড়ক, ফুটপাত তলিয়ে যায়। কেননা এর চেয়ে বেশি ধারণক্ষমতা নেই ঢাকার। সেটুকু সচল রাখতে পারছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো। আগে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা ছিলেন। এখন কেউ নেই। এ অবস্থায় এবারের বর্ষায় কী অবস্থা দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এসব ভোগান্তি থেকে বাঁচতে হলে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফারুক হাসান মো. আল মাসুদ বলেন, খাল-নর্দমা পরিষ্কারকাজ চলছে। বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর এ কাজে বেশ গতি পেয়েছে। আমরা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। তিনি জানান, ভারি বর্ষণ হলে কিছু স্পটে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। সেসব স্পটের জলাবদ্ধতা নিরসনেও কাজ চলমান রয়েছে। আর বর্ষার মৌসুমজুড়ে বিশেষ তদারকি করা হবে। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ সফি উল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, বর্ষার জলাবদ্ধতা নিরসন খুবই চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অন্যবারের মতো এবারো সর্বশক্তি দিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে পুরো বর্ষা মৌসুমে বিশেষ তদারকি অব্যাহত রাখা হবে। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে একটি খাল উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর বাস্তবায়ন কাজ প্রক্রিয়াধীন। 

আর জলাবদ্ধতার হটস্পটের সমস্যায় খাল-নর্দমা পরিষ্কার এবং অন্যান্য উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা সহনীয় মাত্রায় রাখতে সংস্থার প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বৃহস্পতি ও শুক্রবারের বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর অনেক দুর্ভোগ হয়েছে। এ দুর্ভোগ নিরসনে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ একযোগে কাজ করেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসন ও নাগরিক জীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং  পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের পরামর্শক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গত ২৯ মে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাকরাইলের প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আরো জানা যায়, নিয়ন্ত্রণ কক্ষে এ পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ১৯টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে ৪২টি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ অভিযোগের সমাধান সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অভিযোগসমূহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত