প্রয়াণ দিবসে জাতীয় কবিকে ফুল আর গানে স্মরণ
প্রকাশ : ২৭-০৮-২০২৫ ১৬:২৫

ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
গান, আলোচনা ও ফুলেল শ্রদ্ধায় দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে নজরুলের সমাধীতে ভিড় জমান কবির পরিবারের সদস্য ও অনুরাগীরা। আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সংগীতানুষ্ঠান।
নজরুলকে নতুন প্রজন্মের মাঝে জানাতে কেবল দিবসকেন্দ্রিক স্মরণ করাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন কাজী নজরুল ইসলামের নাতনী খিলখিল কাজী। তিনি বলেন, নজরুল কতটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।
বাংলা ১৩০৬ সনের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি নজরুল ইসলাম। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে তাকে বাংলাদেশে এনে নাগরিকত্ব ও জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৩৮৩ সনের ১২ ভাদ্র তিনি মারা যান।
১৯৭২ সালে নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা এবং নজরুল পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে খিলখিল কাজীর বক্তব্যে।
নজরুল রচনাবলী অনুবাদ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ করেন কবির নাতনী। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের রচনা ও সংগীত আমাদের জাতীয় সম্পদ৷ কবি নজরুলের রচনাবলী বহির্বিশ্বে পৌঁছানোর জন্য সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আবেদন জানাচ্ছি৷
এদিন বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে নজরুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলা একাডেমি থেকে সম্পাদিত নজরুল রচনাবলী প্রকাশ হয়েছে। এ ছাড়া নজরুলকে নিয়ে কিছু বই প্রকাশ হয়েছে।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নজরুলের রচনা এ দেশের মানুষের অন্যতম অনুপ্রেরণা। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখছেন তারা নজরুলের চেতনার উত্তরসূরি।
ভাষাবিদ, শিক্ষক ও গবেষক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, নজরুল নিজেই বলেছেন, অমর কবি হওয়ার জন্য আমি আসিনি। আমার কাজ হচ্ছে যুগের প্রয়োজন মেটানো। তিনি ভেবেছিলেন, যুগ কেটে গেলে আমরা হয়তো তাকে মনে রাখব না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নজরুল ইন্সটিটিউট, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, নজরুলসংগীত শিল্পী সংস্থা, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, নজরুল প্রমিলা পরিষদ, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম, নজরুল একাডেমি, জাসাস, বাঁশরী- নজরুল চর্চা কেন্দ্র, শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি সংগ্রহশালা, জিয়া শিশু কিশোর মেলার পক্ষ থেকে নজরুলের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। কেউ কেউ মোনাজাতও করেন।
সমাধি প্রাঙ্গণে 'বাগিচায় বুলবুলি', 'তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে'সহ কয়েকটি গান পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, অসাধারণ বৈচিত্র্যময় জীবন নজরুলের। সাংবাদিক ছিলেন, রণাঙ্গনের যোদ্ধা ছিলেন। সাহিত্যে যেখানে হাত দিয়েছেন- সোনা ফলিয়েছেন। জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেছেন।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com